June 16, 2024, 12:08 am

ফরিদপুরে নির্যাতনের অভিযোগে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মানব বন্ধন।

সাংবাদিকঃ
  • খবর প্রকাশিত সময়ঃ Wednesday, August 4, 2021
  • 33 পড়েছেন:

ফরিদপুরের সদর উপজেলার এ্যাসিল্যান্ড মোহাম্মদ আল-আমিন এর বিরুদ্ধে এক যুবলীগ নেতা ও তার স্ত্রীকে বেধরক মারপিট করার অভিযোগ উঠেছে।আর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের রচকান্দি চতর গ্রামে।উক্ত ঘটনায় তদন্ত চেয়ে এসিল্যান্ডের বিচার দাবি করে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

সোমবার (২ আগস্ট ২০২১ইং) বিকালে ফরিদপুর সদরের চাঁদপুর ইউনিয়নের চরকান্দি চতর গ্রামে এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করেন। তবে, ঐ যুবলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন এসিল্যান্ড। মারপিটের শিকার ঐ যুবলীগ নেতা চাঁদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোঃ মাহাবুব আলম।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, কঠোর লকডাউন চলাকালীন গত শনিবার চরকান্দি চতর গ্রামে একটি জমি দখল করায় বিএনপি নেতা শাহিদ মোল্লার বাড়িতে ৩/৪’শ লোক নিয়ে খিচুড়ি খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিলো।

এ ঘটনায় ফরিদপুর সদর উপজেলা এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আল-আমিন খবর পেয়ে এসে সে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে এলাকার মেম্বারকে ডেকে ও ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে খাবার এতিমখানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। খাবারগুলো এতিমখানায় পৌছানোর পরেই এসিল্যান্ড ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি সানোয়ার, বিএনপি নেতা আনিচ, ফিরোজসহ ৪জনকে সাথে নিয়ে এসে খাবারগুলো আবার ফিরিয়ে নেয়। এ সময় বিএনপি নেতাদের ইন্ধনে খাবারের কাছে থাকা যুবলীগ নেতা মাহাবুবকে কোনো কারন ছাড়াই বেদম মারপিট করে এসিল্যান্ডের সাথে থাকা আনসার সদস্যরা। এ সময় মাহবুবের স্ত্রী তাকে বাঁচাতে জড়িয়ে ধরলে তাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় তারা এসিল্যান্ডের বিচারের দাবি জানান।

তারা জানান, এক প্রভাবশালীর ইন্ধনে খাবারগুলো ফিরিয়ে নেয়া হয়। খাবারগুলো না-কি অনাথ ও অসহায় হিন্দুদের জন্য রান্না করা হয়েছিলো। কিন্তু এই ওয়ার্ডে কোনো হিন্দু পরিবারই নেই। একটি জমি দখল করে তারা এই ভূড়িভোজের আয়োজন করেছিলো। জব্দকৃত খাবারগুলো ফিরিয়ে নিয়ে তারা আবার ভূড়িভোজ করেন।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মারপিটের শিকার যুবলীগ নেতা মাহাবুব আলম ও তার স্ত্রী বিউটি আক্তার, প্রতিবেশী তানিয়া আক্তার প্রমুখ।

মারপিটের শিকার যুবলীগ নেতা মাহাবুব মানববন্ধনে বলেন, গত শনিবার বিকালে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ২টি খিচুরির ডেকসহ দেখতে পাই। এ সময় সে আমাকে জানায় এই গ্রামে বিএনপির লোকজন খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করেছিলো, পরে এসিল্যান্ড স্যার এসে খিচুড়ি জব্দ করে এতিম খানায় পাঠাচ্ছে। পরে তার সাথে আমিও এতিমখানায় খিচুড়ি নিয়ে যাই। এরমধ্যে এসিল্যান্ড স্যার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ফোন করে এতিমখানায় দিতে নিষেধ করে। পরে এসিল্যান্ড নিজেই চলে আসে। এ সময় এসিল্যান্ড গাড়ি থেকেই নেমেই আমাকে দেখিয়ে বলে ধর ওকে, পেটা। এ কথা বলার সাথেই উনার সাথে থাকা গার্ড ও আনসার সদস্যরা আমাকে এলোপাথারি পিটাতে শুরু করে। এ সময় আমি দৌড়ে বাড়িতে গেলে আমার স্ত্রী আমাকে জড়িয়ে ধরলেও তারা আমাকে পেটাতে থাকে। এ সময় আমার স্ত্রীকেও মারধোর করে তারা। পরে আবার রাস্তায় এনে আমাকে পেটাতে থাকে। আমি এক পর্যায়ে আমি বলে উঠি, আমার অপরাধ কি, আমাকে পেটাচ্ছেন কেন? এ সময় আমি যুবলীগের সদস্য পরিচয় দিলেও সে বলে, তোর নেতা দেখার সময় নাই। আমি এঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই, আমি এই এসিল্যান্ডের বিচার চাই।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসিল্যান্ড তার গাড়িতে করে ৪জন বিএনপি নেতাকর্মীকে নিয়ে খিচুড়ি নিতে আসে। তাদের ইন্ধনেই আমাকে মারধর করা হয়। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে বলতে চাই, এই এসিল্যান্ড বিনা কারনে আমাকে এভাবে মারধর করলো কেন? এই এসিল্যান্ড থাকলে চাঁদপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। একে দ্রুত অপসারণ করা হোক।

মানবন্ধনে হাবিব নামে এক যুবক বলেন, এসিল্যান্ড আমার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র জব্দ করে নিয়ে যায়। এরপর আমি তার পিছু পিছু গেলে ঐখানে দেখি খিচুড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সময় এসিল্যান্ড আমাকেই খিচুড়ি ভ্যানে উঠিয়ে দিতে বলে, আমি উঠিয়ে দেই। এরপর থেকেই বিএনপির লোকজন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। তারা আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল-আমিন এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঐ গ্রামে কিছু দুঃস্থ্যদের জন্য খিচুড়ির আয়োজন চলছিলো। আমরা সামাজিক অনুষ্ঠানের কথা শুনে সেখানে গিয়েছিলাম, গিয়ে জানতে পারি দুঃস্থ্যদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা আইনগতভাবে সুন্দর একটি সমাধান করে দিয়েছিলাম। আমরা কিছু খিচুড়ি এতিমখানায়ও পাঠিয়ে দেই এবং বাকি খিচুড়ি যাদের জন্য আয়োজন করা হয়েছিলো তাদেরও খাওয়ানো হয়েছিলো। যাতে কেউ বঞ্চিত না হয়। এতিমখানা থেকে কোনো খিচুড়ি ফেরত নেয়া হয়নি।

এছাড়া যুবলীগ নেতা মাহাবুবকে মারধোরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, মাহবুবকে কোনো মারধর করা হয়নি। তারপরও তারা যদি অভিযোগ তোলে, সে বিষয় নিয়ে তারা আরো পদক্ষেপ নিতে পারে। ঐ গ্রামে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থাকার কারনে ঝামেলাটি হচ্ছে। কি কারনে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে- সেটা আমি নিজেও জানিনা।

খবরটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অন্যান্য খবর এই ক্যাটাগরিরঃ